
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্ষাব্যাপী নয়, প্রয়োজন বছরব্যাপী টেকসই উদ্যোগ
ডেঙ্গু এখন আর কোনো সাময়িক বা নির্দিষ্ট মৌসুমী স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে বৃষ্টিপাত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এডিস মশার প্রজনন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন অভিযানের বদলে মশক নিধনে বছরব্যাপী বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা), জনউদ্যোগ, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, শিশুদের মুক্তবায়ু সেবন সংস্থা এবং পরিবেশ বার্তার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন। “ডেঙ্গু প্রতিরোধে ও প্রতিকারে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে” শীর্ষক এই মানববন্ধনে পরিবেশবাদী, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ অংশ নেন।পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে জন উদ্যোগের সদস্য রাসেল ইসলাম সুজনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পরিজার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তারিক চৌধুরী সোহেল, জন উদ্যোগের সদস্য সচিব তারিক হোসেন মিঠুল, শিশুদের মুক্ত বায়ু সেবন সংস্থার মোহাম্মদ সেলিম, পরিবেশ বার্তার শম্ভু মিত্র, মাকসুদুল কবির সোহেল, সুপর্ণা আকাশ নীলা, প্রমুখ। মানববন্ধন এ ধারণাপত্র পাঠ করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত উপপরিচালক সাইফুল্লা তালুকদার।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বাড়ছে, চিকিৎসাসেবা ও প্লাটিলেটের জন্য হাহাকার তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে কোমলমতি শিশুরা। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অভাব এবং সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে মানববন্ধনে সুনির্দিষ্ট ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়:
১. বছরব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি: বর্ষা মৌসুমের অপেক্ষায় না থেকে বছরজুড়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে লার্ভিসাইডিং ও মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে।
২. স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ: মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের মান নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজেট বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও তদারকি জোরদার করতে হবে।
৩. সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসা: প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা, পর্যাপ্ত প্লাটিলেট সরবরাহ এবং এনএস-১ (NS1) সহ সব পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী রাখতে হবে।
৪. সুপরিকল্পিত বর্জ্য ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা: ড্রেন, নালা ও জমে থাকা পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই এডিসের প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, কেবল সরকারি বা সিটি কর্পোরেশনের উদাসীনতাই নয়, নাগরিকদেরও নিজ নিজ সচেতনতা বাড়াতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি তিন দিনের বেশি জমা পানি সরিয়ে ফেলার চর্চা গড়ে তুলতে হবে।
অনতিবিলম্বে ডেঙ্গুমুক্ত নিরাপদ নগর গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
![]()









