ঠিকাদারের গাফিলতিতে পাটকেলঘাটার এনায়েতপুরবাসী দুই বছর ধরে ভোগান্তির শিকার
পাটকেলঘাটার খলিষখালীতে ঠিকাদারের গাফিলতিতে রাস্তা নির্মাণের কাজ দুই বছর ধরে ঝুলে আছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এনায়েতপুরের ২৫০০ গ্রামবাসী। কর্দমাক্ত রাস্তায় চলাচল করতে না পেরে তিক্ত হয়ে ঠিকাদার প্রতিনিধিকে পিটিয়েছেন গ্রামবাসী তবু কাজ শেষ করছে না ঠিকাদার। এই এনায়েতপুর গ্রামে একটি মাদ্রাসা ও একটি প্রাইমারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিদিন সকালে কোমলমতি শিশুরা কর্দমাক্ত রাস্তায় কাদা মেখে বিরক্ত হয়ে স্কুলে যায়। প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই প্রতিনিধিকে জানান, এনায়েতপুরের সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ হলেই আমরা জানে বেঁচে যায়। তিনি আরও জানান, গত দুই বছর ধরে আমরা খুবই ভূগতেছি। আমাদের কোমলমতি শিশুটা স্কুলে আসার পথে কেউ-কেউ পড়ে যায় জামা নষ্ট করে। এটি এনায়েতপুরের শিক্ষার্থীর জন্য দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
তালা উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে “খুলনা, বাগেরহাট,সাতক্ষীরা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তালা উপজেলার খলিষখালী হাসপাতাল টু এনায়েতপুর ১৪৩০ মি: পিচের সোলিং রাস্তা নির্মাণের কাজ পায় এলজিইডি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘জয় মা ট্রেডার্স’। ১৩-০২-২৪ তারিখে কাজ শুরু করে ১২-১১-২৪ তারিখে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অদ্যাবধি কাজ শেষ করেন নাই উল্লেখিত ঠিকাদার। সময় শেষ হলেও তিনি ঢাকা থেকে সময় বর্ধনের আবেদন করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাজ শুরু করে ১ম চলতি বিল তুলে নেন ৫২,৯৪,৬৫৯ টাকা। দুই বছর ধরে কাজ শেষ না করায় উপায়ান্তর না পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রাস্তা নির্মাণ কাজের টেন্ডার বাতিল করার সুপারিশ করে সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দেয় উপজেলা প্রকৌশলী লথীন্দ্রনাথ হালদার। তবুও টনক নড়েনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লিপি ঘোষের। এলাকাবাসীর কর্দমাক্ত রাস্তায় চলাচলের অসুবিধা ও ভোগান্তি প্রসঙ্গে অবহিত করলে তালা উপজেলা প্রকৌশলী লথীন্দ্রনাথ হালদার জানান, আমি ঠিকাদারের টেন্ডার বাতিল করার সুপারিশ করেও ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ শেষ করাতে পারছি না।