জমকালো আয়োজনে মধ্য দিয়ে শেষ হলো গ্রীনলিফ অ্যাওয়ার্ডের ৮ম আসর
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ‘কাচ্চি ডাইন প্রেজেন্ট গ্রীনলিফ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর ৮ম আসর। আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিনোদন, শিল্প, সংস্কৃতি, মানবিক কর্মকাণ্ড ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, কলাকুশলী ও সেরা ব্র্যান্ডগুলোকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আমিন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও গ্রীনলিফের উপদেষ্টা কৃষান ভূঁইয়া, কাচ্চি ডাইনের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন তালুকদার (মিন্টু তালুকদার), রয়েল লাইফ ইন্টারন্যাশনাল রিয়েল স্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, ড. আনোয়ার উজ্জামান, সততা জুয়েলার্সের চেয়ারম্যান আরিফ হোসাইনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এবারের আয়োজনে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী নূতন এবং নৃত্যগুরু মুনমুন আহমেদকে মর্যাদাপূর্ণ আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল কেয়া পায়েলের মা চম্মা বেগম। ‘সফল বাবা’ সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেতা শাহরুখ ফারদিন সুব্রত।
অনুষ্ঠানে আরও সম্মাননা পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেতা ওমর সানি, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী, অভিনেতা মোশাররফ করিম, রোবেনা রেজা জুই, অভিনেত্রী তানজিন তিশা, কেয়া পায়েল, চিত্রনায়ক নিরব হোসাইন, তৌসিফ মাহবুব, অভিনেত্রী ফারজানা ছবি, নৃত্যশিল্পী চাঁদনী, ‘রক্ত আলতা পায়’ গানের শিল্পী সোহাগ এস বি, অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া, চিত্রনায়িকা দিঘী ও সংগীতশিল্পী সিথি সাহা।
এছাড়া ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটসের যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া কমিটিকে সেরা মানবিক সংগঠনের সম্মাননা দেওয়া হয়। স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান শাওন মজুমদার, ড্যান্স কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার আলমগীর হোসেন আলো, কোরিওগ্রাফার ইমরান আলীসহ দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ব্লগার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রতিভাবান ব্যক্তিরাও এ আয়োজনে সম্মানিত হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। জ্ঞানী, গুণী ও প্রতিভাবান মানুষদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত করার উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে নতুন ও মেধাবী শিল্পী ও কলাকুশলীদের উৎসাহিত করে সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজক, গ্রীনলিফ ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও গ্রীনলিফ অ্যাওয়ার্ডের কর্ণধার তাসলিম হাসান হৃদয় বলেন, ‘এটি আমাদের ৮ম সিজন। আমরা সবসময় দর্শক ও সমাজকে ব্যতিক্রম কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। গুণীদের কদর করা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমরা যদি গুণীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করি, তাহলে একসময় সমাজ থেকে তাদের হারিয়ে ফেলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগ্রাসী ও উগ্রবাদী চিন্তার বিস্তারে সমাজ ও সভ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের যথাযথ সম্মান ও উৎসাহ দেওয়া জরুরি।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আমিন বলেন, ‘এখন থেকে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনেও আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং প্রতিভাবান শিল্পী ও গুণীজনদের সম্মানিত করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।’
গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান, তারকাদের উপস্থিতি এবং মনোজ্ঞ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় গ্রীনলিফ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর ৮ম আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, মানবিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে আরও উৎসাহ সৃষ্টি করবে।