- - -

চুনারুঘাটে গণধর্ষণের আসামি হাবিব অধরা, মামলা তুলে নিতে বাদিনীকে হুমকি

img 20261020 wa0349
Print News

চুনারুঘাটে গণধর্ষণের আসামি হাবিব অধরা, মামলা তুলে নিতে বাদিনীকে হুমকি

 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি হাবিবুর রহমান শাওনের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বাদিনীকে চাপ ও নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এতে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগী জমিলা খাতুনের অভিযোগ, সাবেক স্বামীর বাড়িতে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে তাঁকে গণধর্ষণ করেন হাবিবুর রহমান শাওন , ওয়াহিদ মিয়া সহ ৩ জন । ঘটনার পর তিনি চুনারুঘাট থানায় সাবেক স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও ২ নম্বর আসামি হাবিবুর রহমান ওরফে শাওনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিকে গ্রেপ্তার না করায় সে ও তার সহযোগীরা বাদিনীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সাবেক স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ও খোরপোষ না দেওয়া নিয়ে ঝামেলার একপর্যায়ে জমিলা খাতুনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। সাবেক স্বামীর বন্ধুরা বিরোধ সমঝোতা করে দেওয়ার কথা বলে বিগত ৭ জুন বিকেলে চুনারুঘাটের কাপুরিয়া এলাকায় সাবেক স্বামীর বাড়িতে তাকে ডেকে নেন। সেখানে তাকে আটকে রেখে সাবেক স্বামীর তিন বন্ধু মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসামি হাবিবুর রহমান শাওনের বিরুদ্ধে আরেকটি নারী অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজার এলাকা থেকে আমিনা আক্তার উর্মি নামের এক কিশোরীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অপহরণ করে নিয়ে ৪ জন মিলে গণধর্ষণ করেন। ওই ঘটনায় উর্মির বোন বাদী হয়ে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাবিবুর রহমান শাওনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।
হাবিবুর রহমান শাওন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৬নং রাজিউড়া ইউনিয়নের উছাইল চাড়িনাও গ্রামের বিলাল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান শাওন মূলত মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদকের আড়ালে তিনি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতেন। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত করা সত্ত্বেও সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় ও হুমকি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa