- - -

চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন : ৬ দফা দাবি আদায় না হলে ফুডপান্ডার অর্ডার বন্ধের হুমকি

19 20261010 142254388~2
Print News

চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন : ৬ দফা দাবি আদায় না হলে ফুডপান্ডার অর্ডার বন্ধের হুমকি

৬ দফা দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে এবং অতিরিক্ত কমিশন, নানা রকম চার্জ, অর্ডার বাতিলের দায়, অপেক্ষার মাশুল, একতরফা জরিমানা ও রিফান্ডের নামে টাকা কেটে নেওয়াসহ নানা হয়রানি বন্ধ না করলে অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী বহুজাতিক কোম্পানি ফুডপান্ডার অর্ডার স্থগিত বা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

তাদের দাবি, কমিশনসহ সব ধরনের চার্জ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। সেই সাথে আরও পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন তারা।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর শুলকবহরের বারকোড ফুড জংশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন রোস্তারাঁ মালিকেরা। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো লিখিত বক্তব্যে উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক। এসময় সংগঠনের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রেস্তোরাঁর মালিক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডা এক সময় ৮ শতাংশ কমিশন চুক্তিতে তাদের ব্যবসা শুরু করলেও পরবর্তীতে তা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। কমিশনের বাইরেও অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, অপেক্ষার মাশুল, কমিশনের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নানা খাতে টাকা কেটে নেওয়া হয়। যা সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশে পৌছায়।

এছাড়া বিক্রির টাকা পেতেও ১৩ দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এতে একদিকে বাড়ছে ব্যবসার খরচ, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে মুনাফা। এছাড়া ফুডপান্ডার পাঠানো হিসাব এতটাই জটিল যে কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা বুঝতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হিসাবের খাত ও কর্তনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। এতে নিজেদের বিক্রি, কমিশন ও প্রকৃত আয় যাচাই করাও একদম কঠিন হয়ে পড়ে।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা বলেন, তারা ডিজিটাল প্রযুক্তির বিরোধিতা করছেন না। বরং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা চান। কিন্তু ফুডপান্ডার বর্তমান নীতিতে রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর একের পর এক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ওপরও।

এমন পরিস্থিতিতে ফুডপান্ডার একতরফা ও অস্বচ্ছ ব্যবসায়িক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা। তাদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার প্রযুক্তিগত সমস্যা কিংবা খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাপনায় জটিলতার কারণে অর্ডার বাতিল হলেও এর আর্থিক দায় নিতে হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের। একটি অর্ডার পাওয়ার পর খাবার তৈরিতে কাঁচামাল, শ্রম ও সময় ব্যয় হয়। কিন্তু খাবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর অর্ডার বাতিল হলে সেই খাবার অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা সব সময় সম্ভব হয় না। এতে খাবারের পুরো খরচই লোকসানে পরিণত হতে পারে।

তাদের অভিযোগ, সরবরাহকর্মী বা রাইডার দেরিতে খাবার সংগ্রহ করলে গ্রাহক অর্ডার বাতিল করেন। অথচ এ ধরনের পরিস্থিতিতেও রেস্তোরাঁকে জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, গুনতে হয় মাশুল। যে বিলম্বের জন্য রেস্তোরাঁ দায়ী নয়, তার খেসারতও কেন রেস্তোরাঁ মালিকদের দিতে হবে, তারা জানতে চায়।

গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না শুনেই পাওনা টাকা থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

দেশীয় খাবার সরবরাহকারী প্লাটফর্ম ফুডির উদাহরণ টেনে রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশনে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে ফুডপান্ডার ক্ষেত্রে কমিশনের বাইরে এত ধরনের চার্জ কেন থাকবে? তাদের দাবি, সব চার্জ কমিশনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশন নির্ধারণ করতে হবে।

রেস্তোরাঁ মালিকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-কমিশনের বাইরে সব ধরনের অতিরিক্ত চার্জ বাতিল, সহজ ও স্বচ্ছ খাতওয়ারি হিসাব দেওয়া, রেস্তোরাঁর দোষ ছাড়া অর্ডার বাতিল হলে খাবারের সম্পূর্ণ খরচ বহন, রাইডারের বিলম্বের কারণে জরিমানা বন্ধ, অভিযোগ যাচাই ও রেস্তোরাঁর বক্তব্য না শুনে অর্থ কর্তন বন্ধ এবং সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে বিক্রির টাকা পরিশোধ।

রেস্তোরাঁ মালিকরা আরও জানান, ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো মেনে না নিলে চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁ মালিকরা সম্মিলিতভাবে ফুডপান্ডা প্লাটফর্মে অর্ডার গ্রহণ স্থগিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ করার কর্মসূচিও দিতে বাধ্য হবেন। যা ঢাকাসহ দেশের সবকটি নগরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হুশিয়ার করেন। এতে ফুডপান্ডার পাশাপাশি অনলাইন অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকরাও প্রভাবিত হতে পারেন। তবে এ সমস্যা নিরসনে চট্টগ্রাম রেন্তোরাঁ মালিক সমিতি নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফরম খোলারও ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে অনলাইন খাবার সরবরাহ খাতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা। এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে বহুজাতিক অনলাইন প্লাটফর্মের সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বৈষম্যের শিকার না হন।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa