খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কোতোয়ালী থানা
দর্জি শ্রমিকদলের সভায় সিটি মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন
আপামর শ্রমিক জনতা রাজপথে এগিয়ে না আসলে এই বিপ্লব সফল হতো না
জাতীয়তাবাদী দর্র্জি শ্রমিকদল কোতোয়ালী থানার উদ্যোগে জহুর হক হকার মাকেট এর সম্মুখে বিএনপির চেয়ারপাসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১ তম জন্মদিন শ্রমিক ছাত্র জনতার জুলাই-আগষ্ট উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় বলেন, দর্জি শ্রমিকেরা অবহেলিত তাই জহুর হকার মার্কেট এ কর্মরত শ্রমিকদেরকে কোতোয়ালী থানার দর্জি শ্রমিক দলের মাধমে ৮০০ শ্রমিককে চসিক এর পক্ষ থেকে নাগরিক কার্ড প্রদান করার ঘোষণা দেন। দেশের যেকোন দুর্যোগ ক্রান্তিলগ্নে বেগম খালেদা জিয়ার ও বিএনপি পরিবারের অবদান অনস¦ীকার্য। ১/১১ সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়া ফখরুদ্দিন, মঈনউদ্দিন, সরকার এর সাথে আপোষ করেননি, তিনি সেদিন বলেছিলেন আমার ২টি সন্তান নিয়ে আমি চিন্তা করিনা। এদেশের ১৮ কোটি মানুষ আমার সন্তান। এর পূর্বে স্বৈরাচার এরশাদ আপোষ করতে পারেননি। সেদিন কিন্তু শেখ হাসিনাসহ আরো অনেকেই এই লালদিঘীর ময়দানে বক্তব্য দিয়ে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গেলে জাতীয় বেঈমান হবে বলেছিলেন। দিনের বেলায় বক্তব্য দিয়ে রাতের বেলায় গিয়ে এরশাদের সাথে আতাত করে নির্বাচনে গিয়েছে। সেদিন তারাই জাতীয় বেঈমান হিসেবে জাতির সামনে পরিচিত হয়েছে। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া আতাত না করার কারণে বীর চট্টলার অবিসংবাদিত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে দেশনেত্রী খেতাবে ভূষিত করেছিলেন বীর চট্টলার সংগ্রামী জনতার পক্ষ থেকে। বিগত স্বৈরাশাসক শেখ হাসিনা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তাকে দেশ বিদেশে কোন চিকিৎসা করতে দেননি। দেশ বিদেশে তার সম্মান অনেকগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ঘুমে রেখেছেন। কোতোয়ালী থানার দর্জি শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেনের সঞ্চালনায় বিভাগীয় শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান মজুমদার এর যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশন এর মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লা বাহার, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক টেরিবাজার ববসায় সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, খোরশেদ আলম, কোতোয়ালী থানার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। প্রধান অতিথি তার বক্তবে আরো বলেন- এদেশে মুক্তিযুদ্ধে যেমন সর্বস্তরের অংশগ্রহণ ছিল, আমরা দীর্র্র্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি গনতন্ত্রের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য। বিগত জুলাই- আগষ্ট বিপ্লব তারই একটি প্রতিচ্ছবি। সেই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সাথে আপামর শ্রমিক জনতা রাজপথে স্বর্তস্ফুর্তভাবে এগিয়ে না আসলে এই বিপ্লব সফল হতো না। প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন- জুলাই আন্দোলনকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। এক শ্রেণির মাফিয়া চক্র দেশি-বিদেশি চক্রান্তে আগামী নির্বাচনকে পন্ড করতে চায়। আজকে যারা দেশের শাসনভার ভোগ করে অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত করছে তারা ভোটের বিরুদ্ধে, গনতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। দেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে তাদেরকে বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী ব্যালেটের মাধ্যমে জবাব দিবে। তিনি জহুর হকার মার্কেট এর উন্নয়নের স্বার্থে বলেন- ব্যবসায়ীরা সকলেই ট্র্রেড লাইসেন্স এর আওতায় এসে অবৈধ থেকে বৈধ ব্যবসা করার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মাধ্যমে মার্কেট এর উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন। বিশেষ অতিথি কাজী শেখ নুরুল্লা বাহার বলেন- বেগম খালেদা জিয়া এদেশের শ্রমিক সমাজের আশ্রয়স্থল। তাই জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের তালিকা প্রণয়নের আহ্বান জানান। দর্জি শ্রমিক ভাইয়েরা যারা কারখানায় কাজ করেন তারা সকলে এ সংগঠনের আওতাধীন হয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী, বিভাগীয় শ্রমিক দলের কার্যকরী সদস্য আবুল হাশেম, নুরুল আলম সুজন, আব্দুল খালেক, আব্দুল মান্নান, কোতোয়ালী থানা বিএনপি নেতা হাফিজুল ইসলাম মজুদার মিলন, আব্দুল করিম, আবুল কালাম মোহাম্মদ আনিস, আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মঈনউদ্দিন রাজীব, দর্জি শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মো. আকবর হোসেন, মো. আলামিন, ওয়াজেদ কামাল প্রমুখ।
ছবির ক্যাপশন: খালেদা জিয়ার জন্মদিন ও শ্রমিক জনতার গণআন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কোতোয়ালী থানা দর্জি শ্রমিকদলের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন সিটি মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন।