
জাতির পিতা তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘ভয় নেই আমি এসে গেছি’ –
স্মরণ –
একাত্তরের নির্ভীক কূটনীতিক
মহিউদ্দিন আহমদ
—————————————————
মহিউদ্দিন আহমদ ছিলেন সাবেক কূটনীতিক এবং একাত্তরের রণাঙ্গনে অকুতোভয় বীর সেনা।
জন্ম ১৯ জুন ১৯৪৪ সালে ফেনীর নূরপুর গ্রামে।
রক্তাক্ত একাত্তরের ১ আগস্ট ট্রাফলগার স্কয়ারে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এক সমাবেশে তিনি বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।
১৯৭১ সালে তিনি লন্ডনের পাকিস্তান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারির পদ ছেড়ে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন ইউরোপের দেশগুলোতে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিকদের মধ্যে তিনিই ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগকারী প্রথম কূটনীতিক।
যুদ্ধকালীন বৈরী সময়ে তিনি দূতাবাস থেকে বেরিয়ে আসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনের কাজে যোগ দেন তিনি।
স্বাধীন দেশের স্বপ্নে সেদিন তাঁর যুদ্ধটা শুরু হয়েছিল কূটনৈতিক ফ্রন্টে। এতে তিনি সফলতাও পেয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডন হয়েই দেশে ফিরেছিলেন।
১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি তাঁকে স্বাগত জানাতে মহিউদ্দিন আহমদও হিথ্রো বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
আবেগঘন মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুকে দেখে কেঁদে ফেলেন তিনি, জাতির পিতা তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘ভয় নেই আমি এসে গেছি।’
স্বাধীনতার পর পেশাদার কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমদ ফের চাকরিজীবনে ফিরলেও নানা চড়াই উতরাই পেরোতে হয় তাঁকে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর কূটনৈতিক জীবনেও ঘটে নানান উত্থান পতন।
বিএনপি সরকার তাঁকে চাকরিচ্যুত করে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে মহিউদ্দিন আহমদ চাকরিতে পূনর্বহাল হন। সচিব হিসেবে ২০০১ সালের জানুয়ারিতে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান।
মহিউদ্দিন আহমদ সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লিখতেন। মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, দারিদ্র্য, উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে লিখেছেন তিনি।
তাঁর লেখা বাংলা এবং ইংরেজিতে দেশ-বিদেশে ছাপা হতো। দৈনিক যুগান্তরে তাঁর পাঠকপ্রিয় কলামের শিরোনাম ছিল ‘৭১ এর ঝর্ণাতলায়।’
মহিউদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও সাহসী কূটনীতিক। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।
দেশের জন্য কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমদ ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আমৃত্যু তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে সরব ছিলেন। তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
২০ জুন ২০২২ বীর মুক্তিযোদ্ধা কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমদ মৃত্যুবরণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।
— মেসবা খান
![]()









