- - -

আবহাওয়ার বাস্তবতা উপেক্ষা করে এইচএসসি পরীক্ষা? সিদ্ধান্তে প্রশ্ন, দুর্ভোগে লাখো শিক্ষার্থী

Print News

আবহাওয়ার বাস্তবতা উপেক্ষা করে এইচএসসি পরীক্ষা? সিদ্ধান্তে প্রশ্ন, দুর্ভোগে লাখো শিক্ষার্থী

আবদুল্লাহ মজুমদার

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যার ফলে লাখো পরীক্ষার্থীকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নাগরিকরা কয়েক দিন ধরেই আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। একই সময়ে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে জানানো হয়, পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু পরদিন সকালেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বহু শিক্ষার্থী হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছে। অনেকের প্রবেশপত্র, পোশাক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে যায়। কোথাও কোথাও যানবাহনের সংকট এবং জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লায় এক শিক্ষার্থী ম্যানহোলে পড়ে যাওয়ার একটি ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন কি না এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, যদি আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা স্থগিত করতে পারে, তাহলে একই পরিস্থিতিতে লাখো এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য করা হলো কেন? সিদ্ধান্ত গ্রহণে কি মাঠ প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের বাস্তব প্রতিবেদন যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল?

এদিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকবে, সেখানে জেলা প্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় সেই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকরা।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa