- - -

আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের মাঠ সংস্কার শেষের পথে, উদ্বোধন শীঘ্রই- চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের মাঠ সংস্কার শেষের পথে, উদ্বোধন শীঘ্রই- চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কারণে শিশু-কিশোরদের জন্য কার্যত অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাঠটি পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

রোববার আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক মাঠের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, আমি ওয়াদা দিয়েছিলাম ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১ টি খেলার মাঠ ও পার্ক করে দিব। আমার ওয়াদা বাস্তবায়নে বন্ধ হয়ে যাওয়া আগ্রাবাদের ‍শিশু পার্ক নতুনভাবে চালু করেছি। জাম্বুরি মাঠের একটা অংশ আমরা খেলার জন্য উপযোগী করে প্রস্তুত করেছি। মাঠের অল্প কিছু কাজ বাকী আছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যে মাঠটি খেলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দিব।

“একসময় এই মাঠে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতে পারত না। মাঠটি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা উদ্যোগ নিয়ে মাঠটি পুনরুদ্ধার করেছি এবং যেহেতু এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন, তাই নগরবাসীর জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে শিশু, কিশোর, তরুণসহ সকল বয়সের মানুষ খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি, মাঠটিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী ও আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।“

তিনি আরও বলেন, মাঠটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য ক্রিড়া সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। আমরা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক মানের একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে এবং সেদিন নগরবাসীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মাঠটি উদ্বোধন করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলার মাঠের বিকল্প নেই, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপদ ও মানসম্মত খেলার মাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি নগরবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তুলব। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতোমধ্যে হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরুপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন), হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বেশ কিছু মাঠ উন্নয়ন ও প্রস্তুত করা হয়েছে।এখনো হালিশহর শিশু পার্ক মাঠ এবং হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠের উন্নয়ন কাজ চলমান। এছাড়া, ভবিষ্যতে আরো অনেকগুলো মাঠ গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ চলছে। ২০টি ফুটসাল নির্মাণে ৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকায় ‘চট্টগ্রাম মহানগরে আধুনিক নগর ক্রীড়া সুবিধা সম্প্রসারণ ও ফুটসাল মাঠ নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্পও নিয়েছি আমরা। এতে থাকবে অত্যাধুনিক টার্ফ, সোলার প্যানেলসহ নানা সুবিধা।

মেয়র বলেন, একটি আধুনিক, সুস্থ ও মানবিক নগর গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, বিনোদন ও সামাজিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। নগরবাসীর জন্য আরও নতুন নতুন উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান প্রমুখ।

ক্যাপশন- আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক মাঠের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ফেন্সিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এসব অভিযানে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।​বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই দুটি অভিযান পরিচালিত হয়। ​প্রথম অভিযান (চকপাড়া বিওপি): সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ০৬:৫০ মিনিটে চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের নামোচকপাড়া গ্রামে (সীমান্ত পিলার ১৮৩/৩-এস হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে) অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী পালিয়ে গেলেও মালিকবিহীন ১টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়।​দ্বিতীয় অভিযান (আজমতপুর বিওপি): একই দিন সকাল ০৮:৫০ মিনিটে আজমতপুর বিওপির আরেকটি বিশেষ টহল দল শাহবাজপুর ইউনিয়নের উপচকপাড়া গ্রামস্থ পাকা রাস্তায় (সীমান্ত পিলার ১৮২/২-এস হতে আনুমানিক ৮০০ গজ অভ্যন্তরে) অভিযান চালায়। এই অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়। ​উভয় অভিযানে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও মোটরসাইকেলের আনুমানিক বাজার মূল্য ১,৪০,০০০ (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা। জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সকল প্রকার চোরাচালান রোধে বিজিবি’র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

Su Mo Tu We Th Fr Sa