অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে সৌম্য ও মোস্তাফিজ হয়ে ওঠা সেই সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের বেহাল দশা
বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যখন খেলার মাঠ তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ঠিক সেই মুহুর্তে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সাতক্ষীরার গর্ব সৌম্য ও মোস্তাফিজ হয়ে ওঠা সেই ঐতিহাসিক সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের আজ বেহাল দশা। যেকারণে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ এলাকার তরুণদের খেলাধুলা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় মাঠের বেহাল দশায় ক্রীড়াঙ্গন চলছে ধুকে ধুকে। অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি উচু নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে কাদা পানিতে জরাজীর্ণ ও ভগ্নদশা অবস্থায় পড়ে আছে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি। খেলাধুলার জন্য একরকম অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে প্রাণ হারাচ্ছে শহরের গণমুখী ক্লাব সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই খেলার মাঠটি। এর ফলে মাঠগুলোতে সব ধরনের খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় শিশু, কিশোর ও তরুণদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে মারাত্মক অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খেলার মাঠটি সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষায় ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষার্থীসহ তরুণদের পদচারণায় মুখরিত থাকে মাঠটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অত্র এলাকার একমাত্র খেলার স্থান এই মাঠটি বেশ উঁচু-নিচু। অসমতল হওয়ায় ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন জায়গায় কাদা জমেছে। বর্ষাকালে মাঠটি খেলার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে এ অবস্থায় পর্যাপ্ত খেলার পরিবেশ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের। জানা গেছে, বিকেল হলেই শত শত বিভিন্ন বয়সী খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীর হৈ-হুল্লোড়ে মুখর হয়ে ওঠে মাঠটি। প্রায় সারা বছরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ ক্রিকেট, ফুটবল-ভলিবলের মতো খেলায় জমজমাট থাকে মাঠের পরিবেশ। এ মাঠেই আয়োজন করা হয় বিভিন্ন টুর্নামেন্ট। এব্যাপারে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম টুকু বলেন, ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে ও মাঠের পানি নিস্কাশনের জন্য একটি ড্রেণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও এই মাঠটিকে সংস্কারসহ মিনি স্টেডিয়াম করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জমা দেওয়া আছে। আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
এব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক নির্বাহী সদস্য ও সুন্দরবন ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, সংস্কারের অভাবে ও অযত্নে থাকা খেলার মাঠটি খেলা-ধূলা করার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সৌম্য ও মোস্তাফিজ হয়ে ওঠা এই মাঠ থেকে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত মাঠটি সংস্কার করেন সেই দাবী জানাচ্ছি।
খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমী এবং সচেতন মহলের দ্রুত মাঠটি সংস্কার করে খেলার উপযোগি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।