সোমবার - ২১শে এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ - ৮ই বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

আশাশুনির খাজরায় অবৈধ দখলীয় জমি শালিসে বের করার সিদ্ধান্ত নস্যাতে ষড়যন্ত্র করার

আশাশুনির খাজরায় অবৈধ দখলীয় জমি শালিসে বের করার সিদ্ধান্ত নস্যাতে ষড়যন্ত্র করার

আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে অবৈধ দখলে থাকা জমি শালিসে চিহ্নিত করে বঞ্চিত শরীককে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নস্যাত করতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে বঞ্চিত শরীক বিনয় কৃষ্ণ মন্ডল প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করোছেন। খাজরা ইউনিয়নের রাউতাড়া মৌজায় এসএ ৪১৯ নং খতিয়ানে ১৪৬০ দাগে ৬৬ শতক জমির সমান অংশীদার ৪টি শরীক। শরীকদের মধ্যে ডাঃ শংকর কুমার মন্ডল গং এর শরীকাংশ সাড়ে ১৬ শতক, ক্রয়কৃত সাড়ে ১৬ শতক, মোট পাওনা ৩৩ শতক হলেও রেকর্ড হয়েছে ৩৬ শতক। মৃত আত্তারাম মন্ডলের পুত্র দেবদাশ ও পঞ্চারামদের নামে রেকর্ড হয়েছে ২ শতক, কিন্তু দখলে আছে ৭ শতক। মনোরঞ্জন মন্ডলের ছেলে বিনয় কৃষ্ণ মন্ডলের এসএ অনুসারে পাওনা ৯ শতক। আরএস রেকর্ডে ৯৫৭ খং রেকর্ড হয়েছে ৫ শতক। দখলে আছে ২ শতক। সম্পত্তির দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে দু’মাস পূর্বে গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসএ থেকে আরএস রেকর্ডীয় ১১ জন মালিককে নিয়ে শালিসে বসেন। শালিসে আমিন দ্বারা জমি মাপজোক করা হয়। মাপ শেষে সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, দেব দাশের দখলে থাকা অতিরিক্ত ৫ শতক জমি হতে ৩ শতক জমি বিনয়কে দেওয়া হবে। তখন দেবদাশ সাগরে থাকায় দু’মাস সময় চেয়ে নেয়া হয় এবং সকলের উপস্থিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। দু’মাস পার হওয়ায় সকল শালিসদারকে খবর দিয়ে গত শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রোবর্ডীয় মালিকদের নিয়ে দ্বিতীয় বার শালিসে বসেন। শালিসে পুনরায় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রথম শালিসের সিদ্ধান্ত সঠিক থাকায় জমি মাপজোক শেষে দেব দাশের দখলে থাকা অতিরিক্ত ৭ শতকের মধ্যে হতে ৩ শতক জমি এক পাশ থেকে চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হয়। সেখানে সকলের উপস্থিতিতে নেট বেড়া দিয়ে সীমানা নির্ধারন করা হয়।
শালিস থাকা সাংবাদিক বোরহান উদ্দীন বুলুর ভগ্নিপতি কাপসন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলী গাজী জানান, প্রথম শালিসের সিদ্ধান্ত দ্বিতীয় শালিসের সিদ্ধান্ত একই হওয়ায় আমরা রেকর্ডীয় মালিকসহ উপস্থিত প্রতিবেশীদের সামনেই জমি মেপে সীমনা চিহ্নিত করে দেই। এসময় কোন মত বিরোধ বা কোন রকম ন্যুনতম দ্বন্দ্ব ফাসাদ হয়নি। আমরা সকলকে জানিয়ে দিয়েছি শালিসের সিদ্ধান্তে কোন আপত্তি থাকলে যে কেউ পুনরায় শালিস বসাতে পারে। আমরা আমাদের জানামতে সম্পুর্ণ নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতমুক্ত ভাবে ফয়সালার চেষ্টা করেছি। শালিসে থাকা অরবিন্দ হালদার, হারান মন্ডল জানান, প্রথম শালিসের সিদ্ধান্ত ২য় শালিসে বসে সকলের সম্মতিতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসময় কোন মত বিরোধ, দ্বন্দ্ব, আক্রমন, ভাংচুর বা কোন প্রকার কথা কাটাকাটিও হয়নি। কেউ কোন অভিযোগ করলে তা ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা।
দেবদাশ মন্ডলের স্ত্রী আমাপতি সকলের সামনে জানান, আমাদের দখলে ৭ শতক জমি আছে, আমাদের রেকর্ড হয়েছে ২ শতক। শালিসকারকরা জমিতে সীমানা টেনে ৩ শতক জমি আলাদা করে রেখেছে। আমাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর বা কোন ক্ষয়ক্ষতি করা হয়নি।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn